শনিবার, ফেব্রুয়ারি 7, 2026

শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে মন্তব্য করেননি ট্রাম্প, এটিএন নিউজের সংবাদ বিকৃত করে অপপ্রচার


২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতা হারানোর পরই দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে, সে বছরের ০৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষক দাবিতে বেসরকারি ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম এটিএন নিউজের লোগো সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত ভিডিওটিতে এটিএন নিউজের একজন সংবাদ পাঠিকাকে বলতে শোনা যায়, “যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে শেখ হাসিনাকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট ভারতে যান, সেদিনই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা দেন যে, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। যদিও এ কথা মানুষ বিশ্বাস করেনি। তবে, ঘটনার ডালপালা মেলতে থাকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ পত্র নিয়ে রাষ্ট্রপতির নতুন নতুন এক করা মন্তব্য নিয়ে। দেশের একটি জাতীয় দৈনিককে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের কোন দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। তবুও থেমে থাকেনি আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানানোর সময় শেখ হাসিনা আবারো তাকে বাংলাদেশের রানিং প্রধানমন্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে নেটিজেনদের প্রশ্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রানিং প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি মিমাংসিত বিষয়টি বারবার কেনো আলোচনায় আসছে। এদিকে শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে ট্রাম্পের একটি দাবি সংবলিত  বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় – জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বার্তা সংস্থাটি ২০ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। এএফপি’র প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের শাসক শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের কয়েক মাস পরে সোস্যাল মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেছেন যেহেতু শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি তাই তিনি এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র দেখেননি বলে সম্প্রতি স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করার পর শেখ হাসিনার পদত্যাগ অবৈধ হওয়ার ইস্যুটি সামনে আসে। ফেসবুকে ২০২৪ সালের ০৯ নভেম্বর বাংলা ভাষায় লেখা একটি পোস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এএফপি’র ঐ প্রতিবেদনে। পোস্টে লেখা হয়েছে, পিবিডিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশ সরকারের অবৈধ দালালদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন যারা বলছেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন তারা আমাকে পদত্যাগপত্রটি দেখান।”

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ হাসিনো এখনো বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন দাবিতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে উদ্ধৃত করে এটিএন নিউজ কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ‘শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন’ শীর্ষক মিথ্যা দাবির বিষয়ে এএফপির ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি এটিএন নিউজের একটি সংবাদ ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কাটছাঁট করে আলোচিত দাবি সংবলিত  ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে এটিএন নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর

‘শেখ হাসিনা এখনও ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’, দাবি নিয়ে যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প’ শিরোনামে  প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ৪ মিনিট ৩২ সেকেন্ড সময়ের দীর্ঘ এই ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এই ভিডিওর বেশ কিছু অংশ কাট করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। 

যেমন আলোচিত ভিডিওতে মূল ভিডিওর ৫৬ সেকেন্ড অংশে বলা, “তবে তার কিছুদিন পর শেখ হাসিনার কণ্ঠ সদৃশ্য একটি অডিওতে দাবি করা হয় তিনি নাকি পদত্যাগ করেননি।” শীর্ষক বাক্য বাদ দেয়া হয়েছে। 

পরবর্তীতে ভিডিওটির ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড অংশে বলা, শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে ট্রাম্পের একটি দাবি সংবলিত  বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। “তবে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।” শীর্ষক বাক্যও কেটে দেয়া হয়েছে। 

মূল ভিডিওটির একাধিক অংশে এরূপ গুরুত্বপূর্ণ বাক্য কেটে দিয়ে উল্লিখিত দাবি সংবলিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিতে এএফপি’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আলোচিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। প্রতিবেদনে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ট্রাম্পের এরূপ কোনো মন্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং প্রচারিত দাবিটিকে ভুয়া বলে জানানো হয়েছে। 

Screenshot from AFP Website 

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

সুতরাং, ডোনাল্ড ট্রাম্প শেখ হাসিনাকে এখনো বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে মন্তব্য করেছেন দাবিতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে উদ্ধৃত করে এটিএন নিউজের নামে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পাদিত। 

তথ্যসূত্র 

আরও পড়ুন

spot_img