গত ১৮ অক্টোবর কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরই প্রেক্ষিতে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে।
একই দৃশ্য সম্বলিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজগুলো পর্যবেক্ষণ করে এর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৮ অক্টোবর রাত সোয়া ৮টার দিকে কক্সবাজার পৌর শহরের কলাতলী ডলফিন মোড়স্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া ভবনে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্টার জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, ইসলামিক স্টাটিজ ডিপার্টমেন্টের একটি কম্পিউটারের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত হয়েছে। এসময় কয়েকটি কম্পিউটার ও কিছু বই পুড়ে গেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
পরবর্তীতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে এর পারিপার্শ্বিক উপাদানেও খানিকটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।
সুতরাং, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Atik Sadek: Facebook Video
- Rumor Scanner’s own analysis





