বুধবার, জানুয়ারি 14, 2026

সুদানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪১ সেনা উদ্ধারের দাবিটি গুজব 

সুদানের খনিজপ্রধান আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তিন নারী সেনাসহ মোট আটজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরই প্রেক্ষিতে সুদানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪১ জন সেনা সদস্যকে উদ্ধার করেছে শীর্ষক একটি দাবি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে। 

অনুরূপ দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে। 

একই দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪১ জন সেনা সদস্যকে উদ্ধারের দাবিটি সঠিক নয় বরং, কোনোপ্রকার তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই ভুয়া দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। 

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দাবিটির বিষয়ে তথ্যসূত্র হিসেবে পাক আর্মি পেজ এবং বিবিসি’র নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ কিংবা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এরূপ দাবিতে কোনো সংবাদ প্রচার করতে দেখা যায়নি। 

এ বিষয়ে মূলধারার দেশিয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদমাধ্যমেও পাকিস্তান কর্তৃক ৪১ জন বাংলাদেশি সেনা উদ্ধারের দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রিউমর স্ক্যানারকে জানায়, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।  

পরবর্তীতে, আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের ফেসবুক পেজে ১৪ ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি পোস্টেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ৪১ বাংলাদেশি সেনাসদস্য উদ্ধারেরর এই দাবিটিকে ভুয়া বলে জানানো হয়।   

তাছাড়া, ১৫ ডিসেম্বর (সোমবার) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে, উক্ত বিবৃতিতে কোথাও তারা ৪১ জন বাংলাদশি সেনাসদস্যকে উদ্ধারের দাবি করেনি। 

সুতরাং, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪১ জন সেনা সদস্যকে উদ্ধারের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র 

আরও পড়ুন

spot_img