সোমবার, ডিসেম্বর 15, 2025

তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে গত জানুয়ারির লন্ডনের ভিডিও

শারীরিকভাবে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি ও তার ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে “খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে তারেক জিয়া” দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে

একই দাবির টিকটক ভিডিও দেখুন এখানে।  

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার দাবিটি সঠিক নয় এবং প্রচারিত ভিডিওটিও সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের কাছে যাওয়ার পূর্বে সাংবাদিকদের সাথে তারেক রহমানের আলাপচারিতার ফাঁকে ধারণ করা একটি ভিডিওকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।  


এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Q NEWS UK’ নামক ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ৩ মিনিট ২৭ সেকেন্ড সময়ের দীর্ঘ এই ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

এছাড়া, জাগো নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৮ জানুয়ারিতে একই ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায়। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, “দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাবো সন্তান হিসেবে, মায়ের জন্য দোয়া করার জন্য।”   

অর্থাৎ, এটি সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ শুনে তারেক রহমান তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার সময়ের ভিডিও নয় তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে। 

উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ছেলে তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

সুতরাং, গত জানুয়ারিতে লন্ডনে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পূর্ববর্তী সময়ের ভিডিওকে সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ শুনে তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফেরার সময়ের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র 

আরও পড়ুন

spot_img