রবিবার, ফেব্রুয়ারি 8, 2026

জামায়াতকে মুনাফিক দল বলেননি সেনা কর্মকর্তা, এআই ভিডিও ভাইরাল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মুনাফিক দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পোশাকে একজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভিডিওতে সেনা সদস্যের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “প্রিয় দেশবাসী আজ আমরা বাংলাদেশের এক সংকটময় সময় পার করছি, এটাই আপনাদের লাস্ট সুযোগ দেশ গড়ার। জামায়াত হলো এক মুনাফিক দল, এরা ক্ষমতার জন্য অনেক ধরনের অভিনয় করতে পারে। সহজেই এরা বাঙ্গালীকে বোকা বানায়। একবার আওয়ামীলীগের সাথে, একবার বিএনপির সাথে, এখন সত্যিকারের ইসলামিক দলগুলোর সাথে (অস্পষ্ট) করতে চায়। এরা যখন দেখলো বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম প্রেমিক, তাই এরা নিজেদেরকে ইসলামিক দল দাবি করতেছে। এদের কয়টা প্রার্থীর মুখে দাঁড়ি আছে? অথচ দাঁড়ি রাখাও ওয়াজিব। এদের কারণে বাকি ইসলামিক দলগুলো কলঙ্কিত হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশ বিএনপির হাতেই নিরাপদ, কারণ এদের মাঝে মুনাফিক নাই। তাই আগামীতে সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনুন, তাহলে দেশের উন্নতি হবে।”

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে। 

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে। 

Sesh Tv নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ২০ ডিসেম্বর ৪২ সেকেন্ডের এই কনটেন্টটি আপলোড করার পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ বার। কনটেন্ট এনগেজমেন্ট বিশ্লেষণে আরো দেখা যাচ্ছে, ভিডিওতে লাইক রিয়েক্ট পড়েছে ২ হাজারের অধিক। শেয়ার হয়েছে ১০ হাজারের কাছাকাছি এবং ভিডিওতে মন্তব্য এসেছে প্রায় ৬’শ।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জামায়াতকে মুনাফিক দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয় বরং, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও। 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে কোনো বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে ভয়েস ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাতেও খানিকটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়। 

বিষয়টি নিশ্চিত হতে রিউমর স্ক্যানার ভিডিওটি ‘হাইভ মোডারেশন’ টুলের ‘Hive Detect AI’ মডেল দিয়ে পরীক্ষা করে। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ বলে জানানো হয়।  

এছাড়া, ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ টুলের ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের বিশ্লেষণেও ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ বলে জানা যায়।

Screenshot : Deepfake-o-meter

তাছাড়া, ভিডিওটিতে বক্তব্যরত সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ০৮ সেপ্টেম্বরে ‘নিউজ২৪’ এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে সেনাবাহিনীর কর্নেল এম শফিকুল ইসলামকে ঢাকা সেনানিবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যার চেহারার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে বক্তব্যরত সেনা কর্মকর্তার চেহারার মিল পাওয়া যায়।

Face Comparison by Rumor Scanner

উল্লেখ্য, ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমেও বিষয়টিকে মিথ্যা বলে জানানো হয়।

সুতরাং, এআই-তৈরি ভিডিওকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মুনাফিক দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে সেনা কর্মকর্তার দেওয়া আসল বক্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র 

আরও পড়ুন

spot_img