সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে আগুন অল্পের জন্য রক্ষা পেলো কার্গো ভিলেজ’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং, নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে গত ৩ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়া অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার ভিডিও আসল অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ‘সময় টিভি’র ইউটিউব চ্যানেলে ‘শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রতীকী আগুন, নির্বাপনে মহড়া’ শিরোনামে গত ৩ ডিসেম্বরে প্রচারিত একটি ভিডিও সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের তুলনা করলে মিল পাওয়া যায়।

পাশাপাশি, সময় টিভির প্রতিবেদনের প্রতিবেদক ‘কমল দে’ এর নামেরও উল্লেখ আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি মূলত উক্ত ভিডিও থেকে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সময় টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই ও প্রশিক্ষণ হিসেবে অগ্নি নির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দুই মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতেও ১৮ সেকেন্ড পরবর্তী সময়ে ‘বিশেষ মহড়া’ লেখার উল্লেখ পাওয়া যায় তবে ক্যাপশনে ভিডিওটি আসল অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
পরবর্তীতে এরই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে চট্টগ্রাম ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘চট্টগ্রাম খবর’ এর ওয়েবসাইটে গত ৩ ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মাঝারি পরিসরের অগ্নি নির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। (গত ৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে কার্গো ওয়ারহাউস সংলগ্ন খোলা স্থানে এ মহড়ার আয়োজন করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।.. মহড়ার স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী কার্গো ওয়ারহাউসের পাশে থাকা পরিত্যক্ত ময়লায় হঠাৎ আগুন ধরে গেলে তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক বার্তা পাঠানো হয়। পরে ফায়ার টিম, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য অংশীজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’
এছাড়াও, এ বিষয়ে আরো একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদন প্রচার হতে দেখা যায়।
পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে স্থানীয় এবং মূলধারার গণমাধ্যম সূত্রে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সম্প্রতি কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে গত ৩ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়া অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার ভিডিওকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের আসল ঘটনার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Somoy TV – শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রতীকী আগুন, নির্বাপনে মহড়া
- Chattagram Khobor – চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অগ্নি নির্বাপণ মহড়া
- Ekhon TV – শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নি নিরাপত্তা মহড়া
- Rumor Scanner’s analysis





