গত ১১ নভেম্বর দিবাগত রাত দুইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গ্রামীণ ব্যাংকের চান্দুরা শাখায় জানালার কাচ ভেঙে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া, গত ১১ নভেম্বর রাত প্রায় দেড়টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় বাহিরের জানালা, দরজা ও অন্যান্য স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে, গ্রামীণ ব্যাংক হামলার পরিকল্পনা; গ্রামীণ ব্যাংকের সকল শাখা থেকে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস- শীর্ষক দাবিতে মূলধারার ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টিভি এবং জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ডিজাইন সম্বলিত দুইটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রথম আলোর ফটোকার্ড যুক্ত করে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
যমুনা টিভির ফটোকার্ড যুক্ত করে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংকের হামলার পরিকল্পনা; গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেননি এবং প্রথম আলো কিংবা যমুনা টিভিও এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথম আলো এবং যমুনা টিভির ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোতে প্রথম আলো এবং যমুনা টিভির লোগো লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া যমুনা টিভির ফটোকার্ডটিতে প্রকাশের তারিখ উল্লেখ না থাকলেও প্রথম আলোরটিতে প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে।
এই সূত্রগুলো ধরে অনুসন্ধানে যমুনা টিভি এবং প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে এসংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি যমুনা টিভি এবং প্রথম আলোর ওয়েবসাইট (১, ২) ও ইউটিউব চ্যানেলেও (১, ২) এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে, প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজে আলোচিত ফটোকার্ডটি ভুয়া নিশ্চিত করে একটি পোস্ট দিয়েছে।
এছাড়া, যমুনা টিভি কর্তৃক প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলোতে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের মধ্যে অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পাশাপাশি, প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হলে তা ফলাও করে গণমাধ্যমে প্রচার হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের হামলার পরিকল্পনা; গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস’ শীর্ষক দাবিতে যমুনা টিভি এবং প্রথম আলোর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া বা বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গভীর রাতে পেট্রল ঢেলে গ্রামীণ ব্যাংকে অগ্নিসংযোগ
- Jugantor- পিরোজপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন দেওয়ার চেষ্টা
- Jamuna Television- Facebook Page
- Jamuna Television- Website
- Jamuna Television- YouTube Channel
- Prothom Alo- Facebook Page
- Prothom Alo- Website
- Prothom Alo- YouTube Channel
- Prothom Alo- Facebook Post





