ইন্দোনেশিয়ার আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় অনেক মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ০১ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে পাঠানো এক বার্তায় এই শোক ও সমবেদনা জানান। এরই প্রেক্ষিতে উক্ত শোক বার্তার ছবি প্রচার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে অফিশিয়াল ফরেন স্টেটমেন্টের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা শুরু করেছে।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে।
একই দাবির ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখুন এখানে।
একই দাবির এক্সে পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিশিয়াল ফরেন স্টেটমেন্টের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখার এই চল এবারই প্রথম নয় বরং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও একই চল ছিল।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ২০২২ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ফরেন স্টেটমেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এই স্টেটমেন্টের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা ছিল। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসকে পাঠানো এই বার্তায় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশের কথা জানান শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার পাঠানো এমন আরো ফরেন স্টেটমেন্ট খুঁজে পাওয়া গেছে। এর সবগুলোতেই ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ উল্লেখ রয়েছে। এমন কিছু স্টেটমেন্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
তাছাড়া, বর্তমান অন্তর্বর্তকালীন সরকারও গত বছর কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই একই রীতি অবলম্বন করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাঠানো ফরেন স্টেটমেন্টে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা অন্তর্ভুক্ত রাখছে।
অর্থাৎ, এই উদ্যোগটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে উদ্যোগটির প্রচলন রয়েছে। তাছাড়া, বর্তমান সরকারও তাদের সময়কালের শুরু থেকেই এই উদ্যোগ জারি রেখেছে।
সুতরাং, বাংলাদেশ সরকারের ফরেন স্টেটমেন্টে বিসমিল্লাহ ব্যবহারের বহু পুরোনো উদ্যোগকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Ministry of Foreign Affairs: X Post





