রবিবার, জানুয়ারি 25, 2026

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের পর এআই তৈরি ভুয়া কনটেন্টে ভরে গেছে সামাজিক মাধ্যম, ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক

ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে গত শুক্রবার ২১ নভেম্বর সকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপর শনিবার ২২ নভেম্বর সকালে আরও একবার এবং সন্ধ্যায় পরপর দুবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ৩১ ঘণ্টায় চারবার ভূমিকম্প হয়েছে। এতে শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় অন্তত ১৪টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে।

পরপর ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের দৃশ্য দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে ভূমিকম্পের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত এসব কনটেন্টের মধ্যে ভিডিওভিত্তিক ১২টি এবং ছবিভিত্তিক ২টির পর্যালোচনা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

দাবি ১

২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে একটি উড়ালসেতু ভেঙে পড়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই ভিডিও ব্যবহার করে এটিকে আশুলিয়া, দিয়াবাড়ি ও সাভারের ভূমিকম্পের দৃশ্য বলেও প্রচার করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম রিপাবলিক বাংলাও ভিডিওটিকে বাংলাদেশের ভূমিকম্পের দৃশ্য দাবিতে প্রকাশ করেছে।

Screenshot: Facebook

আশুলিয়ার দাবিতে ভিডিওটি ছড়িয়েছে ফেসবুক, টিকটকইউটিউবে। দিয়াবাড়ির দাবিতে এটি প্রচারিত হয়েছে ফেসবুক, টিকটক, ইন্সটাগ্রাম, এক্সইউটিউবে। সাভারের দৃশ্য দাবি করে ভিডিওটি ছড়িয়েছে এক্সেরিপাবলিক বাংলা তাদের ফেসবুক পেজে এটি প্রকাশ করেছে।

অনুসন্ধানে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে দেশের কোনো উড়ালসেতু ভেঙে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর ফ্লাইওভারের কয়েকটি পিলারের ব্লকে ফাটল দেখা গেলেও কোনো উড়ালসেতু ভেঙে পড়েনি।

পরবর্তীতে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কিনা তা যাচাই করতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ডিপফেক-ও-মিটারের ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের সাহায্যে ভিডিওটি পরীক্ষা করলে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, একটি এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে উড়ালসেতু ভেঙে পড়ার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ২

ঢাকার একটি ফুটওভার ব্রিজ ভেঙে পড়েছে দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। 

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে ঢাকায় কোনো ফুটওভার ব্রিজ ভেঙে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ২০১৯ সালে দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ফিচার ফটোর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির মিল পাওয়া গেছে।

Comparison: Rumor Scanner. 

ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করেও বেশ কিছু অসংগতি দেখা যায়। ভেঙে পড়া ফুটওভার ব্রিজের ওপর অস্বাভাবিকভাবে অনেক মাটি দেখা যায়। আবার ব্রিজের নিচে একটি বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও ভেঙে পড়ার মুহূর্তে বাসটি হঠাৎ পেছনে সরে যায়, ফলে কোনো ক্ষতি হয়নি। 

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, অনলাইনে থাকা পুরোনো একটি ছবিকে এআই ব্যবহার করে ভিডিওতে রূপান্তর করে ঢাকায় ফুটওভার ব্রিজ ভেঙে পড়ার দাবিতে ছড়ানো হয়েছে।

দাবি ৩

কিশোরগঞ্জের অন্যতম দর্শনীয় স্থান গুরুদয়াল সরকারি কলেজের পাশে অবস্থিত লোকসিটি ওয়াচ টাওয়ার ভূমিকম্পে ভেঙে পড়েছে দাবিতে একটি ভিডিও ও একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়েছে টিকটক, ফেসবুকে এবং ছবিটি ছড়িয়েছে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউবে

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে কোথাও ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ‘Arman Hossain Official’ নামের একটি ফেসবুক পেজে সরেজমিনে যাচাইয়ের দুটি (,) ভিডিও পাওয়া গেছে। সেখানে ওয়াচ টাওয়ারটি অক্ষত অবস্থায় দেখা যায়। আরমান উপস্থিত মানুষজনের কাছেও জানতে চান, তারা সবাই টাওয়ার ভেঙে পড়ার দাবিকে অস্বীকার করেন।

Screenshot: Facebook

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। ইমেজ উইসপারারে পরীক্ষা করলে ছবিটি সম্পাদিত বলে ফল পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে কিশোরগঞ্জের লোকসিটি ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে পড়ার দাবি প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ৪

ভূমিকম্পের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। এতে দেখা যায় সড়কের ওপর একটি বাস এক পাশে হেলে পড়ছে।

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে ভূমিকম্পে এমন কোনো সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওতেও বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। রাস্তাটি ভেঙে ভেতরের দিকে দেবে যাচ্ছে, যা পিচঢালা সড়কে সাধারণত সম্ভব নয়। বাসের নামও বিকৃত এবং কোনো অর্থবোধক শব্দ নয়।


ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিওকে ভূমিকম্পজনিত সড়ক দুর্ঘটনার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ৫ 

ভূমিকম্পে ভবন দোলার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুক এবং টিকটকে

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০২৪ সালের ২০ মার্চ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ছবির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে। ছবির ক্যাপশন অনুযায়ী স্থানটি তপসিয়া তিলজলা এলাকা, যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। ভিডিও পর্যবেক্ষণেও অস্বাভাবিক দুলুনি ও বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল অসংগতি পাওয়া যায়।

Comparison: Rumor Scanner. 

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, ভারতের একটি পুরোনো ভিডিওকে এআই ব্যবহার করে নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের ভূমিকম্পের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ৬ 

ঢাকায় পাশাপাশি থাকা দুইটি ভবন ভেঙে পড়েছে দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। 

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঢাকায় এমন কোনো ভবন ধসের তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করেও বেশ কিছু এআই-জনিত অসংগতি চোখে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া সাইনবোর্ডগুলোর লেখা বিকৃত এবং অর্থহীন, যা সাধারণত এআই-তৈরি ভিডিওর সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
ভিডিওটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম হাইভ মোডারেশনে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৮ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে উত্তরায় ভূমিকম্পের তীব্রতার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ৭

উত্তরায় ভূমিকম্পের তীব্রতার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। ভিডিওতে একটি নির্মাণাধীন ভবন দুলতে দেখা যায়। এটি ছড়িয়েছে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম (ভারত), টিকটক, ইউটিউবে

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে কোনো বিশ্বস্ত সূত্রেই উত্তরায় এমন ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে থাকা দোলনের ধরণও অস্বাভাবিক। ভবনটি একবার ডানে, একবার বামে দুললেও কোনো ভাঙন দেখা যায়নি। পাশাপাশি থাকা দুইটি ভবনও পুরোপুরি স্থির, যা বাস্তব ভূমিকম্পের পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না।

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি করা ভিডিওকে উত্তরায় ভূমিকম্পের তীব্রতার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ৮

ভূমিকম্পে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের কিছু অংশ ভেঙে গেছে দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে টিকটকে। 

Screenshot: TikTok

অনুসন্ধানে কোনো বিশ্বস্ত সূত্রেই বসুন্ধরা সিটির কোনো অংশ ধসে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলো তাৎক্ষণিকভাবে খবর প্রকাশ করত কিন্তু এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণেও অসংগতি ধরা পড়ে। ভিডিওতে ভবনের লিফট ভেঙে পড়তে দেখা গেলেও পাশেই চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে যাওয়া মানুষের আচরণ স্বাভাবিক, তাদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক বা তাড়াহুড়ো দেখা যায়নি।

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে বসুন্ধরা সিটির অংশ ভেঙে পড়ার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ৯

ভূমিকম্পের সময় পুরান ঢাকার কসাই টুলীর ভবনের অবস্থা দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ইউটিউবে এটিকে নরসিংদীর ঘটনা দাবি করা হয়েছে। এতে পাশাপাশি থাকা দুইটি ভবনের কিছু অংশ ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে পুরান ঢাকায় এমন কোনো ভবন ধসের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ প্রতিবেদনে ২১ নভেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয় সেদিনের ভূমিকম্পে বাড্ডার লিংক রোডে একটি ভবন হেলে পড়েছে। অন্যদিকে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে স্থানীয়রা জানিয়েছেন ভবনটির নাম নীলকুঞ্জ এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরেই এমন অবস্থায় রয়েছে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নয়। প্রতিবেদনে যুক্ত ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির ভবনের হুবহু মিল রয়েছে।

Comparison: Rumor Scanner. 

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।


অর্থাৎ, বাড্ডার একটি ভবনের স্থিরচিত্রকে এআই দিয়ে ভিডিওতে রূপান্তর করে পুরান ঢাকার কসাই টুলীর দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ১০


ভূমিকম্পে ভবন ভেঙে পড়ার সিসিটিভি ফুটেজ দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। কিছু পোস্টে এটিকে নরসিংদীর ঘটনা দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়েছে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামটিকটকে। 

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে নরসিংদীতে বা দেশের কোথাও এমন কোনো ভবন ধসের তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণেও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে। একটি ভবন তার চেয়ে কম উঁচু আরেকটি ভবনের ওপর ভেঙে পড়ছে, তবুও নিচের ভবনটির ছাদ অক্ষত রয়েছে। বাস্তবে এমন হলে নিচের ভবনের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার কথা।

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিওকে নরসিংদীতে ভূমিকম্পজনিত ভবন ধসের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ১১

ভূমিকম্পে একটি ভবনের ওপর থাকা টাওয়ার ভেঙে পড়েছে দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। 

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে এমন কোনো টাওয়ার ভাঙার তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণেও অসংগতি ধরা পড়ে। শুরুতে টাওয়ারের সামনে ঝুলে থাকা দড়িতে চারটি কাপড় দেখা যায়, কিন্তু পরের অংশে দড়িটি নিচে নেমে গেলে কাপড়ের সংখ্যা পাঁচটি হয়ে যায়। বাস্তব ভিডিওতে এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক নয়।

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিওকে ভূমিকম্পে ভবনের ওপরের টাওয়ার ভেঙে পড়ার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ১২

ভূমিকম্পে ভবন হেলে পড়ার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও  ছড়িয়েছে ইউটিউবফেসবুকে। ভিডিওতে পাশাপাশি থাকা দুইটি বহুতল ভবন এবং পাশে থাকা কয়েকটি সেমি পাকা ঘর হেলে পড়তে দেখা যায়।

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে দেশের কোথাও সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে এমনভাবে ভবন হেলে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। একসঙ্গে এতগুলো ভবন হেলে পড়লে তা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার কথা কিন্তু এ বিষয়ে কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ডিপফেক ও মিটারে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে ভূমিকম্পে ভবন হেলে পড়ার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ১৩

ভূমিকম্পে ঢাকার নিউ মার্কেটের একটি ভবনের অবস্থা দাবিতে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। ছবিতে ভবনের বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়া দেখা যায়। এটি ছড়িয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকে

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে নিউ মার্কেট এলাকায় ভূমিকম্পে এমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রচারিত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করেও এতে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ‘জেমিনি’র জলছাপ দেখা যায়। জেমিনি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে সাধারণত এই জলছাপ যুক্ত থাকে।

Claim image analysis: Rumor Scanner 

অর্থাৎ, এআই দিয়ে বানানো ছবিকে ভূমিকম্পে নিউ মার্কেটের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

দাবি ১৪

অর্ধেক ভাঙা একটি ভবনের ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে এটি ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন। ছবিটি ছড়িয়েছে ফেসবুকইউটিউবে

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানে ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় নিচের ডান পাশে ‘Grok’ লেখা একটি জলছাপ রয়েছে। গ্রক হলো ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান xAI-এর তৈরি একটি জেনারেটিভ এআই চ্যাটবট, যা বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করতে সক্ষম এবং এর তৈরি ছবিতে সাধারণত এ ধরনের জলছাপ যুক্ত থাকে।

Claim image analysis: Rumor Scanner 

হাইভ মোডারেশনে ছবিটি পরীক্ষা করেও দেখা যায় এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৩ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবিকে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

spot_img