শনিবার, জানুয়ারি 24, 2026

বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যাকাণ্ডে জামায়াত নেতা গ্রেফতার দাবিতে নাগরিক টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি ‘যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: মূল আসামি জামায়াত নেতা শ্যুটার মিশু গ্রেফতার’ শিরোনামে মূলধারার গণমাধ্যম নাগরিক টিভির ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: মূল আসামি জামায়াত নেতা শ্যুটার মিশু গ্রেফতার’ শিরোনামে নাগরিক টিভি কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিক টিভি কর্তৃক প্রকাশিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে মূলধারার গণমাধ্যম নাগরিক টিভির লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশ হয়েছে ‘জানুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে নাগরিক টিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, নাগরিক টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, নাগরিক টিভির ইউটিউবে গত ০৮ জানুয়ারি ‘যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: মূল আসামি শ্যুটার মিশু গ্রৈফতার’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এর সঙ্গে প্রচারিত ফটোকার্ডের তারিখের একাংশ, নাগরিক টিভির লোগো ও ছবির মিল রয়েছে। তবে দুই ফটোকার্ডের শিরোনামে কিছুটা পার্থক্য আছে। মূল ফটোকার্ডের শিরোনামে থাকা ‘যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: মূল আসামি শ্যুটার মিশু গ্রেফতার’ পরিবর্তন করে আলোচিত ফটোকার্ডে ‘জামায়েত নেতা’ লেখা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ফটোকার্ডের তারিখে উল্লেখিত ‘০৮ জানুয়ারি ২০২৬’ থেকে ‘০৮’ অংশটি মুছে দেওয়া হয়েছে।

Comparison: Rumor Scanner

অর্থাৎ, নাগরিক টিভির এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয় মূলধারার একাধিক গণমাধ্যমের (,) সূত্রে জানা যায়, যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন। আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ত্রিদিব হত্যার দায় স্বীকারের পাশাপাশি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিএনপি নেতা আলমগীরের ‘মেয়ে জামাই’ পরশ ও প্রতিবেশী সাগর।

নাগরিক টিভিসহ অন্য কোনো গণমাধ্যমে ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুকের জামায়াতের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কেও গণমাধ্যমে কিছু প্রকাশিত হয়নি।

সুতরাং, ‘যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: মূল আসামি জামায়াত নেতা শ্যুটার মিশু গ্রেফতার’ শিরোনামে নাগরিক টিভির নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন

spot_img