ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে গত ২১ নভেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপর ২২ নভেম্বর সকালে আরও একবার এবং সন্ধ্যায় পরপর দুবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ৩১ ঘণ্টায় চারবার ভূমিকম্প হয়েছে। এতে শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরই প্রেক্ষিতে এই ভূমিকম্পে পদ্মা সেতুর পিলারে ফাটল ধরেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমিকম্পে পদ্মা সেতুর পিলারে ফাটল ধরেছে দাবিতে প্রচারিত এই ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কাল্পনিক ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে পদ্মা সেতুর পিলারে ফাটল ধরার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। পর্যালোচনায় ভিডিওটিতে বেশকিছু্ এআই জনিত অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন, আশেপাশের উপস্থিত ব্যক্তিদের অবস্থান, তাদের অস্বাভাবিক নড়াচড়াসহ নারীর পোশাকে এক ব্যক্তির মুখে দাঁড়ি লক্ষ্য করা যায়।
এছাড়া, আলোচিত ভিডিওটি প্রচারকারী ‘Karim Box Exposed’ নামক পেজটি পর্যবেক্ষণে এরূপ একাধিক (এক, দুই, তিন) এআই ভিডিও কন্টেন্টের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়।
পরবর্তীতে, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত এই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম হাইভ মোডারেশন এবং ডিপফেক-ও-মিটারে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ।

অর্থাৎ, উপরোক্ত তথ্য বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভূমিকম্পে পদ্মা সেতুর পিলারে ফাটল ধরেছে দাবিতে প্রচারিত এই ভিডিওটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে সম্প্রতি বাংলাদেশের ভূমিকম্পে পদ্মা সেতুর পিলারে ফাটল ধরেছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Karim Box Exposed: Facebook
- Rumor Scanner’s Analysis





