সোমবার, ফেব্রুয়ারি 9, 2026

আমান আযমী ও ব্যারিস্টার আরমানকে জড়িয়ে কালের কণ্ঠের নামে একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

গুম দশা থেকে ফেরা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আজমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও ব্যারিস্টার আরমান আদৌ গুম অবস্থায় ছিলেন কিনা তা নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা দেখা গেছে। এরই প্রেক্ষিতে, ফেসবুকে Kutub Uddin নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আমান আযমীর বিষয়ে কালের কণ্ঠের আদলে তৈরি তিনটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। একটি ফটোকার্ডের শিরোনাম এমন, “গুম নয়, তুরষ্কের আঙ্কারায় সেফ হাউজে ছিলে আমান আজমী ও আরমান, তুরষ্ক থেকে সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার”। ফটোকার্ডটি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি এটি সত্য কিনা জানতে চেয়েছেন তিনি। তবে পরের দুইটি ফটোকার্ডে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের ধার ধারেননি তিনি। এর মধ্যে একটি ফটোকার্ডে লেখা রয়েছে, “সৌদি আরব হয়ে জামায়াত নেতার সহয়তায় তুরষ্কের সেফ হাউজে যাই। সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজমী।” অন্যটিতে লেখা রয়েছে, “আমি আয়নাঘর নাহ,আর্মির সেফ হাউজে ৩ মাস থাকার পরে তুরষ্কে চলে গিয়েছি। বিগ্রেডিয়ার আজমী।”

উক্ত দাবির আরো কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

একই দাবির ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখুন এখানে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আমান আযমী ও ব্যারিস্টার আরমানের বিষয়ে কালের কণ্ঠ উক্ত দাবিতে কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় গণমাধ্যমটির ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে ভুয়া এই দাবিগুলো প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরুতে ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে এগুলোতে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ এর লোগো এবং ফটোকার্ড প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবিগুলো সম্বলিত কোনো ফটোকার্ডের সন্ধান মেলেনি। কালের কণ্ঠ এর ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবিগুলো সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে এগুলোতে ব্যাকরণগত একাধিক ভুল পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত একটি জাতীয় দৈনিকের ক্ষেত্রে ঘটে না।

পরবর্তীতে অন্যান্য গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতেও আলোচিত দাবিগুলো সমর্থিত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি৷ 

উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। গত বছরের ৬ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, আযমী ফিরে এসেছেন। ব্যারিস্টার আরমানকে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট নিজ বাসা থেকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত বছর একইদিনে ফিরে আসেন আরমানও। 

সুতরাং, আমান আযমী ও ব্যারিস্টার আরমানকে জড়িয়ে কালের কণ্ঠ এর নামে প্রচারিত উল্লিখিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

  • Rumor Scanner’s analysis

আরও পড়ুন

spot_img