সম্প্রতি, “যশোরের শার্শা সরকারি মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসান সাগরকে পিটিয়ে জখম করেছে ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদুল ইসলাম।” শীর্ষক একটি তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, যশোরে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মেহেদী নামের স্কুল ছাত্র নির্যাতনের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং ঘটনাটি তিন বছর পুরোনো এবং প্রচারিত ছবিগুলো মেহেদীর নয়, এগুলো নিজ বাবা কর্তৃক নির্যাতনের শিকার এক ইয়েমেনি শিশুর পুরোনো ছবি।
মূলত, আলোচিত ছবির শিশুটির নাম Shamakh Rashid Al-Qahaili এবং সে ইয়েমেনের বাসিন্দা। শিশুটির বাবা তার নিজ সন্তানকে শাসন করার জন্য পিটিয়ে জখম করেছিলো এবং পরবর্তীতে ইয়েমেনের পুলিশ শিশুটির বাবাকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিয়ে ২০২০ সালে ইয়েমেনের সংবাদমাধ্যম গুলোতে সংবাদ প্রচারিত হয়।
Screenshot from yemennownews website
অন্যদিকে, ২০১৯ সালে স্কুলড্রেসের প্যান্ট ছাড়া শুধু শার্ট পরিধান করে স্কুলে যাওয়ার কারণে যশোরের শার্শা উপজেলার সরকারি মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান সাগরকে পিটিয়ে জখম করেন ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। একই সময়ে উক্ত ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম গুলোতে সংবাদ প্রচারিত হয়।
Screenshot from Jugantor website
যশোরে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র পেটানোর ঘটনার তথ্য এবং ইয়েমেনে এক বাবা কর্তৃক সন্তানকে পিটিয়ে আহত করার ছবি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে যশোরে ছাত্র নির্যাতনের ঘটনা ও নির্যাতিত শিশুর ছবি দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
পূর্বেও একই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিকবার প্রচার করা হয়েছিলো। সে সময়গুলোতে বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে শনাক্ত করে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।
সম্প্রতি “টিপ নিয়ে তোমাদের এত প্রতিবাদ! কৈ?হিজাব নিয়ে অপদস্ত নারীর হয়ে তো কখনো প্রতিবাদী হওনি.. সত্যিই কি নারী স্বাধীনতা চাও? নাকি ভন্ডামী?” শীর্ষক শিরোনামে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মন্তব্য দাবি করে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সম্প্রতি এক পুলিশ সদস্য ও এক কলেজ শিক্ষিকার মধ্যকার টিপ বিতর্ক কাণ্ড নিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্য করে প্রচারিত মন্তব্যটি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নয় বরং এই মন্তব্যটি তার নামে তৈরি করা একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে তার বরাতে প্রচার করা হয়েছে এবং কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই উক্ত মন্তব্যটি ডা. জাফরুল্লাহর দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
গুজবের উৎপত্তি
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘Dr. Zafrullah Chowdhury’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ০৪ এপ্রিল রাত ০৯ টা ২৩ মিনিটে পুলিশ সদস্য ও শিক্ষিকার মধ্যকার টিপ বিতর্ক কাণ্ডকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্য করে একটি মন্তব্য প্রকাশ (আর্কাইভ এখানে) করা হয় যা পরবর্তীতে কপি-পেস্ট হয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মন্তব্য দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ‘Dr. Zafrullah Chowdhury’ নামের উক্ত পেজটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামে তৈরি করা একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ। উক্ত পেজের ট্রান্সপ্যারেন্সি সেকশন থেকে জানা যায় পেজটি ৩ জন এডমিন কর্তৃক সুইডেন থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে।
Screenshot Dr. Zafrullah Chowdhury Facebook page
সংবাদমাধ্যমজাগো নিউজ-২৪ এবং দৈনিক মানবজমিন এর অনলাইন সংস্করণে ২০২১ সালের ০২ আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন হতে জানা যায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার নামে থাকা একাধিক ভুয়া আইডি এবং পেজের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় জিডি করে রেখেছেন।
Screenshot Jagonews24 website
মূলত, মাথায় টিপ পড়ার কারণে গত শনিবার ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে হেনস্তার অভিযোগ উঠে ডিএমপির সুরক্ষা বিভাগের পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেকের বিরুদ্ধে। উক্ত ঘটনা নিয়ে শিক্ষিকা কর্তৃক থানায় অভিযোগ দায়েরের পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেয়। উক্ত ঘটনায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামে তৈরি করা ভুয়া ফেসবুক পেজের পোস্টকেই সূত্র হিসেবে ধরে “টিপ নিয়ে তোমাদের এত প্রতিবাদ! কৈ?হিজাব নিয়ে অপদস্ত নারীর হয়ে তো কখনো প্রতিবাদী হওনি.. সত্যিই কি নারী স্বাধীনতা চাও? নাকি ভন্ডামী?” শীর্ষক মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি, গ্রুপ এবং পেজে প্রচার হচ্ছে।
বিষয়টি অধিক নিশ্চিতের জন্য রিউমর স্ক্যানার টিমের পক্ষ থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গণমাধ্যম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান “জনাব জাফরুল্লার নামে থাকা আইডি অথবা পেজের সঙ্গে ওনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এই বিষয়ে থানায় বহুবার জিডি করা হয়েছে”। অর্থাৎ, এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে উক্ত পেজটি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নয়।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় গণমাধ্যমগুলোতে টিপ পরার প্রতিবাদ নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এরূপ কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।।
প্রসঙ্গত, অভিযোগকারিনীর সাথে বাক বিতণ্ডায় লিপ্ত হওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করায় অভিযুক্ত কনস্টেবল নামজুল তারেককে গত ০৪ এপ্রিল চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ফারুখ হোসেন।
উল্লেখ্য, পূর্বেও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামের ভুয়া পেজটি থেকে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে গুজব হিসেবে শনাক্ত করে একাধিকফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।
অর্থাৎ, কোনো প্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামে তৈরিকৃত একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ হতে পুলিশ সদস্য ও কলেজ শিক্ষিকার মধ্যে টিপ বিতর্ক কাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রচারিত একটি মন্তব্যকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মন্তব্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।
[su_box title=”True or False” box_color=”#f30404″ radius=”0″]
Claim Review: টিপ নিয়ে তোমাদের এত প্রতিবাদ! কৈ?হিজাব নিয়ে অপদস্ত নারীর হয়ে তো কখনো প্রতিবাদী হওনি.. সত্যিই কি নারী স্বাধীনতা চাও?
নাকি ভন্ডামী? –ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরী।
Claimed By: Facebook Posts
Fact Check: False
[/su_box]
তথ্যসূত্র
Statement of Media Advisor at Gonoshasthaya Kendra
সম্প্রতি, বেশ কয়েকটি সূচকে বিশ্ব এবং এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানের একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে ”সোনার বাংলাদেশ শ্মশান কেন?” শীর্ষক শিরোনামে একটি ডিজিটাল ব্যানার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ডিজিটাল ব্যানারটিতে উল্লেখিত অধিকাংশ দাবিই সত্য নয় এবং উক্ত ব্যানারে ধীরগতির মোবাইল ইন্টারনেটে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্যটি বিভ্রান্তিকর। এছাড়া বায়ু দূষণ ও বাল্যবিবাহের তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান উপস্থাপন সম্পর্কিত তথ্যগুলো সত্য।
প্রথম দাবি যাচাই
আলোচিত ডিজিটাল ব্যানারটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে চালের দাম ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি এবং বর্তমান বাংলাদেশে চালের দাম বিশ্বে সর্বোচ্চ।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে চালের দাম পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি হলেও বিশ্বে সর্বোচ্চ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের দাম নিয়ে তথ্য সরবরাহ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ‘globalproductprices’ এ ৯২ দেশের চালের দাম নিয়ে গত মার্চ মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে জাপানে চালের দাম বিশ্বে সর্বোচ্চ এবং বাংলাদেশ চালের দামের দিক দিয়ে বিশ্বে ৮৭ তম। ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ৯০ ও ৯১ তম।
উল্লিখিত দেশগুলোর বর্তমানে চালের দামের তালিকা-
জাপান- ৪.৭৬ ডলার
বাংলাদেশ- ০.৮১ ডলার
ভারত- ০.৭০ ডলার
পাকিস্তান- ০.৬৮ ডলার
বর্তমানে বাংলাদেশে চালের দামে বিশ্বে সর্বোচ্চ দাবিতে প্রচারিত তথ্যটির সূত্রপাত যাচাই করতে গিয়ে, কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে দেশীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ২০২১ সালের ১৪ জুলাই “বাংলাদেশেই চালের দাম এখন সর্বোচ্চ” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
Screenshot Prothom Alo website
তবে প্রথম আলোর উক্ত প্রতিবেদনটি সারা বিশ্বের চালের বাজারের ওপর চালানো পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে নয় বরং এটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড এই পাঁচটি দেশের চালের দাম নিয়ে তৈরি পরিসংখ্যান। যা প্রতিবেদনটির বিস্তারিত অংশে উল্লেখ আছে।
দ্বিতীয় দাবি যাচাই
প্রচারিত ডিজিটাল ব্যানারটির দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বায়ু দূষণে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।
উক্ত দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বায়ুদূষণে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম শীর্ষক দাবিটি সত্য। সর্বশেষ, বিশ্ব বায়ুর মান নিয়ে সুইজারল্যান্ডের দূষণ প্রযুক্তি সংস্থা আইকিউএয়ার সমীক্ষা অনুযায়ী বিশ্বে বর্তমানে বায়ু দূষণে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।
Screenshot IQAir
তৃতীয় দাবি যাচাই
আলোচিত ব্যানারটিতে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান এশিয়াতে সর্বনিম্ন এবং বিশ্বে ১৩৮টি দেশের মধ্যে ১২২তম।
উক্ত দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্বে ১৩৮ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষার মান ১২২ তম নয় এবং বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মানও এশিয়াতে সর্বনিম্ন নয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি) কর্তৃক বৈশ্বিক জ্ঞান সূচক নিয়ে সর্বশেষ প্রকাশিত(২০২১) সমীক্ষা অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের শিক্ষার মান ১২০ তম এবং এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে আফগানিস্তান, দেশটির অবস্থান ১৫১তম।
Data screenshot from GKI Report 2021. Image altered by Rumor Scanner
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রকাশিত বৈশ্বিক জ্ঞান সূচক তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ১১২তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো সর্বনিম্ন। তবে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিলো মিয়ানমার (১২৮তম)
Data screenshot from GKI Report 2020. Image altered by Rumor Scanner
উল্লেখ্য, পূর্বেও বাংলাদেশে শিক্ষার মান এশিয়ায় সর্বনিম্ন দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত তথ্যকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।
আলোচিত ডিজিটাল ব্যানারটিতে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, টাকা পাচারে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
উল্লিখিত দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্বে টাকা পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় নয় বরং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভুটান। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। সর্বশেষ প্রকাশিত বাসেল এন্টি মানি লন্ডারিং ইনডেক্স-২০২১ অনুযায়ী অর্থ পাচারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩ তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১৮, ২১ এবং ২৮ তম।
আলোচিত ডিজিটাল ব্যানারটিতে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বৃদ্ধির তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম।
উল্লিখিত দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, ধনী-দরিদ্র বৈষম্য বৃদ্ধির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে প্রথম নয়। এমনকি এই তালিকায় শীর্ষ ১০ এর মধ্যেও বাংলাদেশের নাম নেই। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ এর ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ২০২২ সালে প্রকাশিত ধনী দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধির তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই সূচক অনুযায়ী ওপরে উল্লিখিত দেশগুলোর স্কোর-
দক্ষিণ আফ্রিকা- ৬৩
শ্রীলঙ্কা- ৩৯.৩
ভুটান- ৩৭.৪
ভারত- ৩৫.৭
নেপাল- ৩২.৮
বাংলাদেশ- ৩২.৪
ষষ্ঠ তথ্য যাচাই
আলোচিত ডিজিটাল ব্যানারটিতে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে বাল্য বিবাহের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।
উক্ত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ের করতে গিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্বে বাল্য বিবাহের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় শীর্ষক তথ্যটি সঠিক।
বিভিন্ন সূচকের তথ্য প্রদানকারী পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘Statista’ এ সর্বশেষ ২০২১ সালে প্রকাশিততালিকা অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে বাল্যবিবাহের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। নাইজার এবং চাদের অবস্থান যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয়।
ওপরে উল্লিখিত দেশসমূহে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিবাহের হার-
নাইজার- ৭৫%
চাদ- ৬৮%
বাংলাদেশ- ৬৬%
সপ্তম তথ্য যাচাই
আলোচিত ডিজিটাল ব্যানারটিতে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ধীরগতির ইন্টারনেটে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।
উক্ত দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, ধীরগতির মোবাইল/ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় নয়।
ইন্টারনেট স্পিড যাচাইকারি প্রতিষ্ঠান ‘ওকলা’র ওয়েবসাইটে সর্বশেষ (ফেব্রুয়ারি-২০২২) প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বিশ্বের ১৩৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯ তম, ধীরগতির দিক দিয়ে যা বিশ্বে ১০ম এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০ টি দেশের মধ্যে ৯৮, ধীরগতির দিক দিয়ে যা ৮৩তম অবস্থানে রয়েছে।
Screenshot from Ookla website
তবে ২০২১ সালের জুলাই এবং সেপ্টেম্বরে একই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ধীরগতির মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ। (নিম্নগতি বলতে তালিকায় শেষ দিক থেকে অবস্থান বোঝানো হয়েছে)
বর্তমানে ধীরগতির মোবাইল ইন্টারনেটে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ফিলিস্তিন। আর ধীরগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বর্তমানে বিশ্বে প্রথম অবস্থান রয়েছে আফগানিস্তান।
সম্প্রতি “হিন্দু মেয়েটিকে ভিন্ন ধর্মের ছেলে কেটে বিট্রিশে বড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় দরা পরেছে।(ভারত)” শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে
ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। পোস্টটির আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রেমিক কর্তৃক হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রেমিকাকে হত্যা সম্পর্কিত কোনো ঘটনার নয় বরং তারা উভয়ই একই ধর্মের। তবে ঠিক কিভাবে ঐ তরুণী মারা গিয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি।
ভিডিওটির কিছু স্থিরচিত্র রিভার্স সার্চের মাধ্যমে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম “hindi.news18.com” এর অনলাইন সংস্করণে গত ২৬ মার্চে “कलियर हत्याकांड: सूटकेस में मिली लड़की की लाश, लड़के ने पहले कहानी गढ़ी फिर किया हत्या की वजह का खुलासा (অনুবাদ- কালিয়ার হত্যাকাণ্ড: স্যুটকেসে মেয়ের লাশ, ছেলে প্রথমে গল্প বানান তারপর খুনের কারণ জানাল)” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলোচিত ভিডিও সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।
Screenshot from News18 website
পরবর্তীতে কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম “jagran” এর ওয়েবসাইটে গত ২৪ মার্চে “शादी से इन्कार करने पर युवती की हत्या, सूटकेस में शव डालकर होटल से हो रहा था फरार (অনুবাদ -বিয়ে করতে অস্বীকার করায় মেয়েটিকে খুন, দেহ স্যুটকেসে রেখে হোটেল থেকে পলাতক) ” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলোচিত ভিডিও সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
Screenshot from Jagran website
পাশাপাশি, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম “etvbharat” এর ওয়েবসাইটে গত ২৫ মার্চে “झूठी थी आत्महत्या की कहानी, प्रेमिका के ‘सूटकेस मर्डर’ के लिए बनाया था फुलप्रूफ प्लान(অনুবাদ – আত্মহত্যার গল্প মিথ্যে, বান্ধবীর ‘স্যুটকেস খুনের’ বানোয়াট পরিকল্পনা করা হয়েছিল)” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংযুক্ত একটি ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির কিছু অংশের মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।
এছাড়াও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘aajtak’ এর ওয়েবসাইটে গত ২৫ মার্চে “सूटकेस में प्रेमिका का शव ले जा रहा था प्रेमी, पुलिस ने पकड़ा तो जानिए क्या बोला” (অনুবাদ -স্যুটকেসে প্রেমিকার লাশ নিয়ে যাচ্ছিল প্রেমিক, পুলিশ ধরলে, কী বললেন জেনে নিন) শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
Screenshot from aajtak website
মূলত, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের উত্তরখান্ডের কালিয়ার একটি আবাসিক হোটেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক প্রেমিক যুগল একটি কক্ষ ভাড়া নেয়। তারা দুইজন কক্ষে প্রবেশের প্রায় তিন ঘণ্টা পর প্রেমিক ছেলেটি হোটেল কক্ষ থেকে একটি স্যুটকেস নিয়ে বের হতে শুরু করে তবে ঐ যুবক স্যুটকেসটি ঠিকমতো বহন করতে না পারায় হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে হোটেল ম্যানেজার ঐ যুবককে থামিয়ে স্যুটকেস খুলে স্যুটকেসটিতে ঐ যুবকের সাথে হোটেল কক্ষে প্রবেশ করা মেয়েটির মৃতদেহ দেখতে পান। এরপর হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং ছেলেটিকে তাদের হেফাজতে নেয়।
সম্প্রতি, অক্সফোর্ড ডিকশনারি এর বরাত দিয়ে INDIA এর পূর্ণরূপ “ইসলাম নে দি ইস মুলক কো আজাদী (অনুবাদঃ ইসলামই এই দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছে)” শীর্ষক দাবিতে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, INDIA শব্দটি কোনো শব্দের সংক্ষিপ্ত রুপ নয় যার ফলে এর কোনো পূর্ণরুপ নেই এবং অক্সফোর্ড ডিকশনারিতেও INDIA শব্দের কোনো পূর্ণরুপ দেয়া নেই।
কি-ওয়ার্ড সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে, ইন্ডিয়া ভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘SuccessCDs’ এ ২০১৮ সালের ০৬ ডিসেম্বরে “INDIA Full Form, What is the Full form of INDIA?” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনটিতে India এর পূর্ণরুপ সম্পর্কে বলা হয়েছে – “As the name India (Country), is not an acronym and so, it doesn’t have any full form.”
যা বঙ্গানুবাদ অনুবাদ করলে দাঁড়ায়ঃ ইন্ডিয়া (দেশের নাম), এটি একটি সংক্ষিপ্ত রুপ নয় সুতরাং, এর কোন পূর্ণরুপ নেই।
Screenshot from SuccessCDs website
এছাড়া, উল্লিখিত শিক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘SuccessCDs’ ছাড়াও একাধিক ওয়েবসাইট যেমনঃ ‘Javatpoint’, ‘Tutorialsmate’, ‘Preply’ তেও একই বিষয় বলা হয়েছে।
পরবর্তীতে, India নামের উৎপত্তি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভারতীয় ডিজিটাল মিডিয়া কোম্পানি ‘ScoopWhoop’ এর ওয়েবসাইটে “Do You Know What India, Bharat & Hindustan Mean? Here’s The Answer” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। “The official name of the Republic of India was derived from the Sanskrit name ‘Sindhu’ that referred to Indus River.” যা বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়ায়ঃ ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক নামটি সংস্কৃত নাম ‘Sidnhu’ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল, যা সিন্ধু নদীকে নির্দেশ করে।
এছাড়াও, ইন্ডিয়াভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা জাগরণ প্রকাশনী লিমিটেড এর শিক্ষাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘Jagranjosh’ এ ২০১৯ সালের ১৪ আগস্টে “Do you know how India got her name as Bharat” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে India শব্দটি ‘Sindhu’ শব্দ থেকে এসেছে।
Screenshot from Jagranjosh website
তাছাড়া, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের অনলাইনভিত্তিক ডিকশনারি ওয়েবসাইট ‘Lexico’ তে India শব্দটির পূর্ণরুপ ‘ইসলাম নে দি ইস মুলক কো আজাদী’ সম্পর্কিত কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।
Screenshot from Lexico website
মূলত, India শব্দটি সিন্ধু নদীর নাম থেকে উদ্ভূত হয়েছে। India শব্দটি একটি দেশের নাম, এটি কোনো শব্দের সংক্ষিপ্ত রুপ নয় যার ফলে এর কোনো পূর্ণরুপও নেই।
উল্লেখ্য, India শব্দের পূর্ণরুপ “Independent Nation Declared In August” শীর্ষক একটি দাবি পূর্বে ভারতে ছড়িয়ে পড়লে উক্ত তথ্যটিকে মিথ্যা প্রমাণ করে ভারতীয় ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান Factly এবং Newsmobile প্রতিবেদন প্রকাশ করে
প্রসঙ্গত, পূর্বেও ‘Lol’ শব্দের পূর্ণরুপ “Lucifer Our Lord” দাবিতে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উক্ত তথ্যটি মিথ্যা প্রমান করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো রিউমর স্ক্যানার।
সুতরাং, India শব্দটির পূর্ণরুপ “ইসলাম নে দি ইস মুলক কো আজাদী” শীর্ষক একটি দাবি তথ্যসূত্রহীনভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
[su_box title=”True or False” box_color=”#f30404″ radius=”0″]
সম্প্রতি, “৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে মধ্য আকাশে জন্ম নিয়েছে শিশু, আজীবন আকাশ ভ্রমণ ফ্রি” শীর্ষক শিরোনামে একটি সংবাদ কিছু ভূইফোঁড় অনলাইন পোর্টালে প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে শিশুর জন্ম হওয়ার ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং সংবাদটি প্রায় পাঁচ বছর পূর্বের।
মূলত, ২০১৭ সালের জুনে ভারতের বেসরকারি এয়ারলাইন্স কোম্পানি জেট এয়ারওয়েজে্র একটি ফ্লাইট সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে ভারতের কেরালার কোচির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার পর পথিমধ্যে আকাশের ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় এক গর্ভবতী যাত্রী বিমানের কেবিন ক্রু এবং ভ্রমণকারী একজন দক্ষ নার্সের সহায়তায় শিশুর জন্ম দেন। পরে জেট এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ তাদের অফিশিয়াল টুইটার একাউন্টে শিশুটিকে আজীবন বিনামূল্যে আকাশ ভ্রমণের সুবিধা দেয়ার বিষয়টি ঘোষণা করে। বিমানে ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় সন্তান জন্মদানের ৫ বছর পুরোনো তথ্যটি সাম্প্রতিক সময়ে কোনো তারিখ উল্লেখ না করেই বেনামী অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পুনরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অনলাইন পোর্টালগুলোতে প্রকাশিত সংবাদের ফিচার ছবিতে কেবিন ক্রুদের শিশুকে ঘিরে রাখার যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা একই বছরের এপ্রিল মাসে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ৪২ হাজার ফুট উচ্চতায় জন্ম নেওয়া শিশুর ছবি।
পূর্বেও একই বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছিল। তখনও বিষয়টিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।
সম্প্রতি “আপনারা জীবনে তো অনেক কিছুই শেয়ার করলেন পারলে এই ছোট্ট বাচ্চাটির পাশে দাড়ান (আতিক বয়স ৭ মাস) নাভির ভেতরে টিউমার।” শীর্ষক শিরোনামে এক শিশুর কয়েকটি ছবি সংযুক্ত করে একটি মানবিক সাহায্যের আবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আতিক নামে প্রচারিত ছবিগুলো বাংলাদেশি কোনো রোগাক্রান্ত শিশুর নয় বরং এগুলো ভারতীয় নাগরিক দেবিকা ও প্রমোদ দম্পতির ১ মাস বয়সী শিশুর ছবি।
রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতির মাধ্যমে, “A rare condition is threatening to take away my only child. Help us!” শীর্ষক শিরোনামে ভারতের গণ-অর্থায়ন প্লাটফর্ম ‘Ketto’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মূল ছবিগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।
Screenshot from Ketto
পাশাপাশি, ‘Ketto’ এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও টুইটার একাউন্টে শিশুটির জন্য ফান্ডরাইজিং নিয়ে চলতি বছরের ২৬ মার্চে প্রকাশিত পোস্টে একই ছবিগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।
“My 1-mo baby boy, whose life hasn’t even begun yet, is suffering from a rare disease. I want to watch him grow up and make sweet memories with him, but unfortunately, his treatment is beyond my financial means. You are my only hope!”
এছাড়াও, ‘Ketto’ এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে গত ১৭ মার্চে “Born with a terrible deformity on his stomach, he needs surgery to survive” শীর্ষক শিরোনামে গণ-অর্থায়নের জন্য প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।
মূলত, ছবিগুলো ভারতীয় নাগরিক দেবিকা ও প্রমোদ দম্পতির ১ মাস বয়সী শিশুর। শিশুটি এক্সোম্ফালোস মেজর সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে হায়দ্রাবাদের “Ankura Hospital for Women & Children” এ চিকিৎসাধীন আছে। ফান্ডরাইজিং ঐ ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আক্রান্ত শিশুটির চিকিৎসার জন্য ১২ লাখ ইন্ডিয়ান রুপির প্রয়োজন এবং তার চিকিৎসার জন্য ফান্ডরাইজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে আতিক নামে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদনকৃত ফেসবুক পোস্টগুলোয় উল্লিখিত ব্যক্তিগত বিকাশ ও নগদ নাম্বার যথাক্রমে (01611944975 ও 01628600429) একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, রিউমর স্ক্যানার টিম পূর্বেও বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে আর্থিক সাহায্য চেয়ে করা পোস্টগুলোকে শনাক্ত করে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সুতরাং, আর্থিক সহায়তার নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে এক ভারতীয় শিশুকে বর্তমানে বাংলাদেশের রোগাক্রান্ত শিশু আতিক দাবি করে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
[su_box title=”True or False” box_color=”#f30404″ radius=”0″]
Claim Review: আপনারা জীবনে তো অনেক কিছুই শেয়ার করলেন পারলে এই ছোট্ট বাচ্চাটির পাশে দাড়ান (আতিক বয়স ৭ মাস) নাভির ভেতরে টিউমার
সম্প্রতি, “পবিত্র কাবা শরিফ থেকে বের হওয়ার সময় প্রিয় আল্লামা সাঈদী সাহেবের ছবি যারা যারা বাংলার মাটিতে সাঈদী সাহেবকে আবার মুক্ত দেখতে চান তারা শেয়ার করেন।” শীর্ষক শিরোনামে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’র কাবা শরীফ থেকে বের হওয়ার সময়কালীন দৃশ্য দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুকে প্রচারিত এমন একটি পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে। আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্ট
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ছবিটি দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর নয় বরং নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুহাম্মাদু বুহারী এর কাবা ঘর থেকে বের হওয়ার সময়কালীন একটি ছবিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় বিকৃত/এডিট করে উক্ত ছবিটি সম্পাদন করা হয়েছে।
মূলত, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাইজেরিয়ার শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া কামনায় দেশটির রাষ্ট্রপতি মুহাম্মাদু বুহারী এবং তার একটি প্রতিনিধি দল মক্কার কাবা শরীফে প্রবেশ করেছিলেন। দোয়া শেষে পবিত্র কাবাঘরের ভেতরের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে ধারণকৃত একটি ছবিকেই প্রযুক্তির সহায়তায় বিকৃত করে এতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুখমণ্ডলের ছবি বসিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
Screenshot from The Guardian Nigeria website
পূর্বেও একই ছবি ব্যবহার করে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কাবা ঘরের ভেতর থেকে বের হওয়ার দৃশ্য দাবি করে ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। তখনও বিষয়টিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।
সম্প্রতি “ভিক্ষুকের মত নির্লজ্জ ভাবে পায়ে ধরে শুধুই শেয়ার টা ভিক্ষা চাচ্ছি। সাহায্য করতে না পারলেও অন্তত একটি শেয়ার করুন আপনার শেয়ারের মাধ্যমে হয়তো কোনো বিত্তবান, দানশীল ও দ্বীনদার ব্যক্তির নজরে আসবেই ইনশাআল্লাহ” শীর্ষক শিরোনামে এক শিশুর কয়েকটি ছবি সংযুক্ত করে একটি মানবিক সাহায্যের আবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আর্থিক সাহায্য চেয়ে প্রচারিত উক্ত ছবিগুলো কোনো বাংলাদেশি শিশুর নয় বরং ছবিগুলো জোহান নামের ভারতীয় এক শিশুর।
রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতির মাধ্যমে ”My baby was born with a failing liver & is critically ill. Help us save him” শীর্ষক শিরোনামে ভারতের গণ-অর্থায়ন প্লাটফর্ম ‘Ketto’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মূল ছবিগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।
পাশাপাশি, ‘Ketto’ এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শিশুটির জন্য ফান্ডরাইজিং নিয়ে ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বেরে প্রকাশিত পোস্টে একই ছবিগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।
মূলত, আর্থিক সহায়তার নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে জোহান নামের এক ভারতীয় শিশুর ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে বর্তমানে বাংলাদেশের রোগাক্রান্ত শিশু দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।
পূর্বেও একই শিশুর ভিন্ন কিছু ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশি শিশু শিয়াব দাবিতে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। তখনও বিষয়টিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।
সম্প্রতি, “ফর্মহীনতার কারণে প্রশ্ন উঠছিল বারবার কেন তিনি খেলছেন। অবশেষে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যারন ফিঞ্চ। আজই সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।” শীর্ষক একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ান তারকা ক্রিকেটার অ্যারন ফিঞ্চ সব ধরণের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি বরং তিনি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজেও অংশগ্রহণ করবেন।
কিওয়ার্ড সার্চ করার মাধ্যমে, খেলাধুলার সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইট ESPNCricinfo তে গত ০৩ এপ্রিল “Aaron Finch’s form woes raise questions: It hasn’t been up to scratch” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে ফর্মহীনতা এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারার বিষয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাদা বলের অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ এর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়। যেখানে তিনি বলেছেন –
Screenshot from ESPNCricinfo website
Obviously, it hasn’t been up to scratch. I’ve been well short of runs in the Sri Lanka series and this series here, there’s no doubting that,” he said. “I don’t need you to tell me that. It’s frustrating, no doubt, and as you get older, I think you probably question yourself a little bit more.
“But I still feel as though all my training has been really positive, it’s just been the first couple of balls, getting my pad in the way. It’s been a thing throughout my career and it would be nice if it didn’t happen – but I’m still very confident I can turn it round in the next series against Sri Lanka.
তার বক্তব্যের নিচের অংশটুকু অনুবাদ করলে দাঁড়ায় –
“তবে আমি এখনও অনুভব করি যে আমার সমস্ত প্রশিক্ষণ সত্যিই ইতিবাচক ছিল, এটা মাত্র প্রথম কয়েকটা বল, আমার প্যাড বাধা হয়ে গেছে। এটা আমার ক্যারিয়ার জুড়ে একটা জিনিস(সমস্যা) ছিল এবং এটা না ঘটলে ভালো হবে – কিন্তু আমি এখনও খুব আত্মবিশ্বাসী যে আমি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরের সিরিজে এটাকে ঘুরিয়ে দিতে পারব।”
অর্থাৎ অ্যারন ফিঞ্চ এর বক্তব্য থেকে এটি স্পস্ট যে তিনি অবসরের ঘোষণা দেননি বরং তিনি দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের ১৯ আগস্টে “Lockdown helps Finch settle on retirement date” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অ্যারন ফিঞ্চের অবসর নেওয়ার সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়-
Screenshot from Australia Cricket website
Australia captain Aaron Finch says the enforced break due to the COVID-19 pandemic has affirmed his desire to play for another three years and retire at the end of the 2023 ODI World Cup in India.
Finch, 33, plans to lead Australia in white-ball cricket to the next three major tournaments; the T20 events in 2021 and 2022 and then the 50-over showpiece a year later.
অর্থাৎ, অ্যারন ফিঞ্চ ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর অবসরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন এবং পরবর্তী (২০২০ সালের পরবর্তী) তিনটি বড় টুর্নামেন্টে সাদা বলের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের ২৭ আগস্টে “Finch concedes his Test dream is all but over” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফিঞ্চ সাদা বলের খেলা চালিয়ে গেলেও টেস্ট খেলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। টেস্ট থেকে সরাসরি অফিশিয়াল অবসর নেওয়ার ঘোষণা না দিলেও টেস্টে আর মাঠে নামা হবে না তার বিষয়টি একরকম নিশ্চিত করেছেন তিনি।
সুতরাং, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যারন ফিঞ্চ সব ধরণের ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দাবিতে একটি তথ্য সূত্রহীনভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
[su_box title=”True or False” box_color=”#f30404″ radius=”0″]
Claim Review: অবশেষে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যারন ফিঞ্চ